Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪১ AM || প্রকাশের তারিখঃ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৭ PM

নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ড. ইউসুফ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও পাওনা না দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

News Image

​খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (এনইউবিটি)-র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আবদুল্লাহ সহ পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমি ক্রয়ে জালিয়াতি এবং বকেয়া পাওনা টাকা না দিয়ে কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনা ও জীবননাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘মার্কেটিং প্রোমোশন এন্ড ব্র্যান্ডিং’ বিভাগের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মোঃ মাহমুদ হাসান লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।
​সংবাদ সম্মেলনে মোঃ মাহমুদ হাসান জানান, তিনি ২০১৬ সালের ১ মার্চ থেকে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে পাওনা বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করছে। তার বকেয়া পাওনার মধ্যে রয়েছে ৩৬ মাসের বকেয়া বেতন ১৬ লাখ ৮১ হাজার ১২৮ টাকা, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৯ লাখ ১৩ হাজার ৬৩০ টাকা, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত কাজের পারিশ্রমিক ও যাতায়াত বাবদ ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য কাজ বাবদ ২৫ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫৮ টাকা।
​তিনি অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও পরিশোধ না করে তাকে অন্যায়ভাবে ছুটি দেওয়া হয় এবং ড. ইউসুফ আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জমিজমা সংক্রান্ত কাজ শেষ করার শর্ত দেওয়া হয়। সেই কাজ শেষ করে রিপোর্ট জমা দিলে টাকা না দিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর তাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
​সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এনইউবিটি ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. আবু ইউসুফ মোঃ আবদুল্লাহ সাবেক আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমি ক্রয়ে বড় ধরণের জালিয়াতি চালিয়ে গেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার হরণ করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন।
​এ বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী কর্মকর্তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে ড. আবু ইউসুফ মোঃ আবদুল্লাহ, রেজিস্ট্রার কে এম ইমাম আহসান এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ সেলিম খানের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ৭ দিনের মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়।
​সংবাদ সম্মেলন থেকে অনতিবিলম্বে বকেয়া ১ কোটি ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫৮ টাকা পরিশোধ, বেআইনি আচরণের সুষ্ঠু বিচার এবং জমি ক্রয়সহ যাবতীয় দুর্নীতির উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।